জীবনানন্দ দাশ (১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ – ২২ অক্টোবর, ১৯৫৪) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃৎদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মেলে৷
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷
জীবনানন্দ দাশ প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন৷ তবে ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুর পূর্বে তিনি ২১টি উপন্যাস এবং ১২৬টি ছোটগল্প রচনা করেছিলেন যার একটিও তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়নি৷ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে তিনি দিনাতিপাত করেছেন৷ বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে অনপনেয়ভাবে বাংলা কবিতায় তাঁর প্রভাব মুদ্রিত হয়েছে৷
সমুদ্রচিলের সাথে আজ এই রৌদ্রের প্রভাতে কথা ব’লে দেখিয়াছি আমি; একবার পাহাড়ের কাছে আসে, চকিতে সিন্ধুর দিকে যেতেছে সে নামি; হামাগুড়ি দিয়ে ভাসে ফেনার…
পৃথিবীতে ঢের দিন বেঁচে থেকে যখন হয়েছে পূর্ণ সময়ের অভিপ্রায়-আগাগোড়া জীবনের দিক চেয়ে কে আবার আয়ু চায়?যদিও চোখের ঘুম ভুলে…
সর্বদাই প্রবেশের পথ র'য়ে গেছে;এবং প্রবেশ ক'রে পুনরায় বাহির হবার;-অরণ্যের অন্ধকার থেকে এক প্রান্তরের আলোকের পথে;প্রান্তরের আলো থেকে পুনরায় রাত্রির…
সমুদ্রের জলে আমি দেহ ধুয়ে, চেয়ে থাকি নক্ষত্রের আকাশের পানেচারিদিকে অন্ধকার: নারীর মতন হাত, কালো চোখ, ম্লান চুল ঝরেযতদূর চোখ…
সে অনেক রাজনীতি রুগ্ন নীতি মারীমন্বন্তর যুদ্ধ ঋণ সময়ের থেকেউঠে এসে এই পৃথিবীর পথে আড়াই হাজারবছরে বয়সী আমি;বুদ্ধকে স্বচক্ষে মহানির্বাণের…
পাহাড়, আকাশ, জল অনন্ত প্রান্তরঃসৃজনের কী ভীষণ উৎস থেকে জেগেকেমন নীরব হয়ে রয়েছে আবেগ;যেন বজ্রবাতাসের ঝড়ছবির ভিতরে স্থির- ছবির ভিতরে…
তুমি তা জানো না কিছু—না জানিলে,আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে;যখন ঝরিয়া যাবো হেমন্তের ঝড়ে’—পথের পাতার মতো তুমিও তখনআমার…
কোনো দিন নগরীর শীতের প্রথম কুয়াশায়কোনো দিন হেমন্তের শালিখের রঙে ম্লান মাঠের বিকেলেহয়তো বা চৈত্রের বাতাসেচিন্তার সংবেগ এসে মানুষের প্রাণে…
ওই যে পূর্ব তোরণ-আগেদীপ্ত নীলে, শুভ্র রাগেপ্রভাত রবি উঠলো জেগেদিব্য পরশ পেয়ে,নাই গগণে মেঘের ছায়াযেন স্বচ্ছ স্বর্গকায়াভুবন ভরা মুক্ত মায়ামুগ্ধ-হৃদয়…
সময়ের সুতো নিয়ে কেটে গেছে ঢের দিনএক আধবার শুধু নিশিত ক্ষমতাএনেছিল,- তারপরে নিভে- মিশে গেছে;হৃদয় কাটাল কান।বালুঘড়ি ব'লে গেলঃ সময়…