মাকড়সা
               সান্‌-বাঁধা মোর আঙিনাতে
               জাল বুনেছি কালকে রাতে,
               ঝুল ঝেড়ে সব সাফ করেছি বাসা।
               আয় না মাছি আমার ঘরে,
               আরাম পাবি বসলে পরে,
               ফরাশ পাতা দেখবি কেমন খাসা!

 

মাছি
               থাক্‌ থাক্‌ থাক্‌ আর বলে না,
               আন্‌কথাতে মন গলে না-
               ব্যবসা তোমার সবার আছে জানা।
               ঢুক্‌লে তোমার জালের ঘেরে
               কেউ কোনদিন আর কি ফেরে?
               বাপ্‌রে! সেথায় ঢুক্‌তে মোদের মানা।

 

মাকড়সা
               হাওয়ায় দোলে জালের দোলা
               চারদিকে তার জান্‌লা খোলা
               আপ্‌নি ঘুমে চোখ যে আসে জুড়ে!
               আয় না হেথা হাত পা ধুয়ে
               পাখ্‌না মুড়ে থাক্‌ না শুয়ে-
               ভন্‌ ভন্‌ ভন্‌ মরবি কেন উড়ে?

মাছি
               কাজ নেই মোর দোলায় দুলে,
               কোথায় তোমার কথায় ভুলে
               প্রাণটা নিয়ে টান্‌ পড়ে ভাই শেষে।
               তোমার ঘরে ঘুম যদি পায়
               সে ঘুম কভু ভাঙবে না হায়-
               সে ঘুম নাকি এমন সর্বনেশে!

 

মাকড়সা
               মিথ্যে কেন ভাবিস্‌ মনে?
               দেখ্‌না এসে ঘরের কোণে
               ভাঁড়ার ভরা খাবার আছে কত!
               দে-টাপাটপ ফেলবি মুখে
               নাচ্‌বি গাবি থাক্‌বি সুখে
               ভাবনা ভুলে বাদ্‌শা-রাজার মতো।

 

 

 

মাছি
               লোভ দেখালেই ভুলবে ভবি,
               ভাবছ আমায় তেমনি লোভী!
               মিথ্যে দাদা ভোলাও কেন খালি,
               করব কি ছাই ভাড়ার দেখে?
               প্রণাম করি আড়াল থেকে-
               আজকে তোমার সেই গুড়ে ভাই বালি।

 

মাকড়সা
               নধর কালো বদন ভরে
               রূপ যে কত উপচে পড়ে!
               অবাক দেখি মুকুটমালা শিরে!
               হাজার চোখে মানিক জ্বলে!
               ইন্দ্রধনু পাখার তলে!
               ছয় পা ফেলে আয় না দেখি ধীরে।

 

 

 

মাছি
               মন ফুর্‌ফুর্‌ ফুর্তি নাচে-
               একটুখানি যাই না কাছে!
               যাই যাই যাই- বাপ্‌রে একি বাঁধা।
               ও দাদা ভাই রক্ষে কর!
               ফাঁদ পাতা এ কেমন তরো।
               পড়ে হাত পা হল বাঁধা।

 

দুষ্টুলোকের মিষ্টি কথায়
               দুষ্টুলোকের মিষ্টি কথায়
               নাচলে লোকের স্বস্তি কোথায়?
               এমনি দশাই তার কপালে লেখা।
               কথার পাকে মানুষ মেরে
               মাকড়জীবী ঐ যে ফেরে,
               গড় করি তার অনেক তফাৎ থেকে।

-সুকুমার রায়

artpoet

Share
Published by
artpoet

Recent Posts

পথিকের বন্ধু

মহকুমার টাউন থেকে বেরুলাম যখন, তখনই বেলা যায় যায়।কলকাতা থেকে আসছিলাম বরিশাল এক্সপ্রেসে। বারাসাত স্টেশনে…

1 week ago

নুটি মন্তর

হাবু— নাপিতের ছেলে, সুতরাং রীতিমতো তার বুদ্ধি।পায়রাগাছির গুণিন রোজা (ওঝা) এ অঞ্চলে প্রসিদ্ধ, সে নাকি…

1 week ago

তিরোলের বালা

মার্টিন কোম্পানির ছোটো লাইন।গাড়ি ছাড়বার সময় উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে, এখনও ছাড়বার ঘণ্টা পড়েনি। এ নিয়ে…

1 week ago

তারানাথ তান্ত্রিকের দ্বিতীয় গল্প

তারানাথ তান্ত্রিকের প্রথম গল্প আপনারা শুনিয়াছেন কিছুদিন আগে, হয়তো অনেকেই বিশ্বাস করেন নাই। সুতরাং তাহার…

1 week ago

তারানাথ তান্ত্রিকের গল্প

সন্ধ্যা হইবার দেরি নাই। রাস্তায় পুরোনো বইয়ের দোকানে বই দেখিয়া বেড়াইতেছি, এমন সময়ে আমার এক…

1 week ago

টান

ভূত আছে কি নেই এ তর্ক বহুদিনের। ভগবানের অস্তিত্ব নিয়েও এ ধরনের তর্ক আদিম যুগ…

4 weeks ago