তিনটি কবিতা : রবীন্দ্রনাথ-কৃত রূপান্তর বলিয়া অনুমিত

 

                            ১

তারাকদম্বকুসুমান্যবকীর্য দিক্ষু

ক্ষেমায় সর্বজগতাং স্বকরৈঃ প্রকামং।

হিণ্ডীরপাণ্ডররুচিঃ শশলাঞ্চনোইয়ং

নীরাজয়ন্‌ ভুবনভাবনমুজ্জিহীতে॥

স্বৈরং শৈলবনাবলীং বিঘটয়ন্‌ সংক্ষোভয়ন্‌ সাগরং

প্রধ্‌মাতৈর্গিরিকন্দরান্‌ মুখরয়ন্‌ ব্রহ্মাণ্ডমুদ্‌বোধয়ন্‌।

বায়ো ত্বং শুভশঙ্খচামরভবাং প্রীতিং বিধেহি প্রভোঃ

সন্ধ্যামঙ্গলদীপকোহয়মুদগাৎ ব্যোম্নি স্ফুরত্তারকে॥

                       –তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা, মাঘ ১৭৯৮ শক

 

                       ১

তারকাকুসুমচয়

     ছড়ায়ে আকাশময়

চন্দ্রমা আরতি তাঁর করিছে গগনে।

     দুলায়ে পাদপগুলি

     সাগরে তরঙ্গ তুলি

জাগাইয়া জগতের জীবজন্তুগণে

     পর্বতকন্দরে গিয়া

     শুভ শঙ্খ বাজাইয়া

পবন হরষে তাঁরে চামর দুলায়।

     অগণ্য তারকাবলী

     চৌদিকে রয়েছে জ্বলি,

মঙ্গলকনকদীপ গগনের গায়।

 

                       ২

গগন মৈ থালু রবি-চন্দু দীপক বনে।

তারিকামণ্ডল জনক মোতী॥

ধূপু মলআনলো পবণু চবরো করে।

সগল বনরাই ফূলন্ত জোতী॥

কৈসী আরতী হোই

ভবখণ্ডনা তেরী আরতী।

অনহতা সবদ বাজন্ত ভেরী॥

                       –নানক : গুরুগ্রন্থসাহেব

 

                       ২

গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বলে,

     তারকামণ্ডল চমকে মোতি রে।

ধূপ মলয়ানিল,  পবন চামর করে,

     সকল বনরাজি ফুলন্ত জ্যোতি রে।

কেমন আরতি, হে ভবখণ্ডন, তব আরতি–

     অনাহত শব্দ বাজন্ত ভেরী রে।

 

                       ৩

কঁই তো দিবস দেখেন মী ডোলাঁ

কল্যাণ মঙ্গলামঙ্গলাচেঁ॥

আয়ুষ্যাচ্যা শেবটী পায়াসবেঁ ভেটী।

কলিবরেঁ তুটী জাল্যা ত্বরে॥

সরো হে সঞ্চিত পদবীচা গোবা

উতাবীল দেবা মন জালে॥

পাউল্যপাউলীঁ করিতাঁ বিচার

অনন্ত বিকার চিত্তা অঙ্গী॥

হ্মণউনিঁ ভয়াভীত হোতো জীব।

ভাকিতসেঁ কীঁব অট্টাহাসেঁ॥

তুকা হ্মণে হোইল আইকিলে কানী।

তরী চক্রপাণী ধাঁব ঘালা॥

দুঃখাচ্যা উত্তরী আলবিলে পায়।

পাহাণঁ তেঁ কায় অজুন অন্ত॥

                                 –তুকারাম

 

                       ৩

সেদিন হেরিবে কবে এ মোর নয়ান–

কেবলই মঙ্গল যবে, কেবলই কল্যাণ।

পরমায়ু-অবসানে ভেটিব চরণ,

টুটিবে সত্বর মোর সকল বন্ধন।

সকল বন্ধন মোর হোক অপসৃত–

উতলা হয়েছে, দেব, তাই মোর চিত।

পদে পদে দেখি আমি করিয়া বিচার

মন-অঙ্গে রহিয়াছে অনন্ত বিকার।

ভয়ে ভীত তাই মোর চকিত পরান–

সকাতরে চাহি কৃপা, করে পরিত্রাণ।

তুকা ভণে তব কানে পশিবে এ কথা–

দীন-উদ্ধারণ প্রভু, শীঘ্র এসো হেথা।

চরণ ধরিয়া ডাকি তোমারে একান্ত–

এখনো কি দুঃখ মোর হইবে না অন্ত?

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

artpoet

Share
Published by
artpoet

Recent Posts

💄 মেকআপ নিয়ে মজার বাংলা জোকস

১.বন্ধু: তুই এত মেকআপ করিস কেন?মেয়ে: আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য।বন্ধু: তা আত্মবিশ্বাস বাড়ল?মেয়ে: হ্যাঁ, এখন Face…

1 day ago

⚽ খেলার জোকস

১. ফুটবল প্রেমমা: সারাদিন শুধু ফুটবল খেলিস কেন?ছেলে: মা, আমি দেশের নাম উজ্জ্বল করব।মা: আগে…

1 day ago

ফানি জোকস

😄 Joke 1: অনলাইন ক্লাসশিক্ষক: বল তো, পৃথিবী গোল কেন?ছাত্র: স্যার, যদি চৌকো হতো, তাহলে…

1 day ago

কেদার রাজা

একদুপুর বেলায় নীলমণি চাটুজ্জে বাড়ি ফেরবার পথে গ্রামের মুদির দোকানে জিজ্ঞেস করলেন, হ্যাঁ গো ছিবাস,…

1 day ago

দুই বাড়ি

১. রামতারণ চৌধুরীরামতারণ চৌধুরী সকালে উঠিয়া বড় ছেলে নিধুকে বলিলেন—নিধে, একবার হরি বাগদীর কাছে গিয়ে…

2 days ago

অশনি সংকেত

নদীর ঘাটে তালগাছের গুঁড়ি দিয়ে ধাপ তৈরী করা হয়েছে। দুটি স্ত্রীলোক স্নানরতা। একটি স্ত্রীলোক অপেক্ষাকৃত…

4 days ago