ভাঙা অতিথশালা।

       ফাটা ভিতে অশথ-বটে

               মেলেছে ডালপালা।

       প্রখর রোদে তপ্ত পথে

       কেটেছে দিন কোনোমতে,

       মনে ছিল সন্ধ্যাবেলায়

               মিলবে হেথা ঠাঁই–

       মাঠের ‘পরে আঁধার নামে,

       হাটের লোকে ফিরল গ্রামে,

       হেথায় এসে চেয়ে দেখি

               নাই যে কেহ নাই।

 

       কত কালে কত লোকে

               কত দিনের শেষে

       ধুয়েছিল পথের ধুলা

               এইখানেতে এসে।

       বসেছিল জ্যোৎস্নারাতে

       স্নিগ্ধ শীতল আঙিনাতে,

       কয়েছিল সবাই মিলে

               নানা দেশের কথা।

       প্রভাত হলে পাখির গানে

       জেগেছিল নূতন প্রাণে,

       দুলেছিল ফুলের ভারে

               পথের তরুলতা।

 

       আমি যেদিন এলেম সেদিন

               দীপ জ্বলে না ঘরে,

               বহু দিনের শিখার কালি

               আঁকা ভিতের ‘পরে।

       শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে

       জোনাক ফিরে ঝোপে ঝাড়ে,

       ভাঙা পথে বাঁশের শাখা

               ফেলে ভয়ের ছায়া–

       আমার দিনের যাত্রা-শেষে

       কার অতিথি হলেম এসে!

       হায় রে বিজন দীর্ঘ রাত্রি!

               হায় রে ক্লান্ত কায়া!

 

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

artpoet

Share
Published by
artpoet

Recent Posts

হাসি

স্টেশনের ওয়েটিং রুমের ভেতরে-বাইরে কোথাও অন্য লোক ছিল না, বেহারাটাকেও ডেকে ডেকে পাওয়া গেল না।…

1 week ago

সোনাকরা যাদুকর

রোহিণী রায় আমাদের গ্রামের জমিদার ছিলেন শুনেছিলাম।আমাদের পাড়ায় তাঁদের মস্ত দোতলা বাড়ি। তিন-চার শরিকে ভাগ…

1 week ago

রহস্য

আমার বন্ধুর মুখে শোনা এ গল্প। বন্ধুটি বর্তমানে কলকাতার কোনো কলেজের প্রফেসার। বেশ বুদ্ধিমান, বিশেষ…

1 week ago

রঙ্কিনীদেবীর খড়গ

জীবনে অনেক জিনিস ঘটে, যাহার কোনো যুক্তিসংগত কারণ খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। তাহাকে আমরা অতিপ্রাকৃত…

1 week ago

মেডেল

কয়েক বছর পূর্বে এ-ঘটনা ঘটেছে, তাই এখন মাঝে মাঝে আমার মনে হয় ব্যাপারটা আগাগোড়া মিথ্যে;…

1 week ago

মেঘমল্লার

দশপারমিতার মন্দিরে সেদিন যখন সাপুড়ের খেলা দেখবার জন্য অনেক মেয়ে-পুরুষ মন্দির প্রাঙ্গণে একত্র হয়েছিল, তারই…

4 weeks ago