সবচেয়ে যে ছোটো পিঁড়িখানি সেইখানি আর কেউ রাখেনা পেতে, ছোট থালায় হয় নাকো ভাত বাড়া, জল ভরে না ছোট্ট গেলাসেতে; বাড়ির মধ্যে সব-চেয়ে যে ছোটো খাবার বেলা কেউ ডাকে না তাকে, সব-চেয়ে যে শেষে এসেছিল, তারই খাওয়া ঘুচেছে সব-আগে ।
সব-চেয়ে যে অল্পে ছিল খুশি খুশি ছিল ঘেঁষাঘেঁষির ঘরে, সেই গেছে, হায়, হাওয়ার সঙ্গে মিশে, দিয়ে গেছে, জায়গা খালি করে । ছেড়ে গেছে পুতুল, পুঁতির মালা, ছেড়ে গেছে মায়ের কোলের দাবি; ভয়-তরাসে ছিল যে সব-চেয়ে সেই খুলেছে আঁধার ঘরের চাবি ।…
চ’লে গেছে একলা চুপে চুপে– দিনের আলো গেছে আঁধার ক’রে; যাবার বেলা টের পেলো না কেহ, পারলে না কেউ রাখতে তারে ধ’রে। চলে গেলো, –পড়তে চোখের পাতা,– বিসর্জনের বাজনা শুনে বুঝি ! হারিয়ে গেলো–অজানাদের ভিড়ে, হারিয়ে গেলো-পেলাম না আর খুঁজি।
হারিয়ে গেছে–হারিয়ে গেছে, ওরে ! হারিয়ে গেছে বোল-বলা সেই বাঁশি হারিয়ে গেছে কচি সে মুখখানি, দুধে-ধোওয়া কচি দাঁতের হাসি। আঁচল খুলে হঠাৎ স্রোতের জলে ভেসে গেছে শিউলি ফুলের রাশি , ঢুকেছে হায় শশ্মানঘরের মাঝে ঘর ছেড়ে তাই হৃদয় শশ্মান-বাসী ।
সবচেয়ে যে ছোটো কাপড়গুলি সেগুলি কেউ দেয় না মেলে ছাদে, যে শয্যাটি সবার চেয়ে ছোটো আজকে সেটি শূন্যে পড়ে কাঁদে, সব-চেয়ে যে শেষে এসেছিলো সে গিয়েছে সবার আগে সরে ছোট্ট যে জন ছিল রে সব চেয়ে সে দিয়েছে সকল শূন্য করে ।