পঁয়তাল্লিশ | tokhon amar ayur toroni Getting your Trinity Audio player ready... তখন আমার আয়ুর তরণীযৌবনের ঘাট গেছে পেরিয়ে।যে-সব কাজ প্রবীণকে প্রাজ্ঞকে মানায়তাই নিয়ে পাকা করছিলেমপাকা চুলের মর্যাদা।এমন সময়ে আমাকে ডাক দিলেতোমার সবুজপত্রের আসরে।আমার প্রাণে এনে দিলে পিছুডাক,খবর দিলেনবীনের দরবারে আমার ছুটি মেলেনি।দ্বিধার মধ্যে মুখ ফিরালেমপেরিয়ে-আসা পিছনের দিকে।পর্যাপ্ত তারুণ্যের পরিপূর্ণ মূর্তিদেখা দিল আমার চোখের সম্মুখে।ভরা যৌবনের দিনেওযৌবনের সংবাদএমন জোয়ারের বেগে এসে লাগেনি আমার লেখনীতে।আমার মন বুঝলযৌবনকে না ছাড়ালেযৌবনকে যায় না পাওয়া।;আজ এসেছি জীবনের শেষ ঘাটে।পুবের দিক থেকে হাওয়ায় আসেপিছুডাক,দাঁড়াই মুখ ফিরিয়ে।আজ সামনে দেখা দিলএ জন্মের সমস্তটা।যাকে ছেড়ে এলেমতাকেই নিচ্ছি চিনে।সরে এসে দেখছিআমার এতকালের সুখদুঃখের ঐ সংসার,আর তার সঙ্গেসংসারকে পেরিয়ে কোন্ নিরুদ্দিষ্ট।ঋষি-কবি প্রাণপুরুষকে বলেছেন–“ভুবন সৃষ্টি করেছতোমার এক অর্ধেককে দিয়ে,–বাকি আধখানা কোথায়তা কে জানে।”সেই একটি-আধখানা আমার মধ্যে আজ ঠেকেছেআপন প্রান্তরেখায়;দুইদিকে প্রসারিত দেখি দুই বিপুল নিঃশব্দ,দুই বিরাট আধখানা,–তারি মাঝখানে দাঁড়িয়েশেষকথা ব’লে যাব–দুঃখ পেয়েছি অনেক,কিন্তু ভালো লেগেছে,ভালোবেসেছি।– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর Post Views: 85