কে ও বাজাইছে বাঁশী, স্বজনি, মৃদু মৃদু স্বরে নিকুঞ্জবনে? নিবার উহারে ; শুনি ও ধ্বনি দ্বিগুণ আগুন জ্বলে লো মনে?– এ আগুনে কেনে অাহুতি দান? অমনি নারে কি জ্বালাতে প্রাণ?
(২)
বসন্ত অন্তে কি কোকিলা গায় পল্লব—বসনা শাখা-সদনে? নীরবে নিবিড় নীড়ে সে যায়— বাঁশীধ্বনি আজি নিকুঞ্জবনে? হায়, ও কি আর গীত গাইছে? না হেরি শ্যামে ও বাঁশী কাঁদিছে?
(৩)
শুনিয়াছি, সই, ইন্দ্র রুষিয়া গিরিকুল-পাখা কাটিলা যবে, সাগরে অনেক নগ পশিয়া রহিল ডুবিয়া—জলধিভবে। সে শৈল সকল শির উচ্চ করি নাশে এবে সিন্ধুগামিনী তরী।
(৪)
কি জানি কেমনে প্রেমসাগরে বিচ্ছেদ-পাহাড় পশিল আসি? কার প্রেমতরী নাশ না করে— ব্যাধ যেন পাখী পাতিয়া ফাঁসি— কার প্রেমতরী মগনে না জলে বিচ্ছেদ-পাহাড়—-বলে কি ছলে!
(৫)
হায় লো সখি, কি হবে স্মরিলে গত সুখ? তারে পাব কি আর? বাসি ফুলে কি লো সৌরভ মিলে? ভুলিলে ভাল যা—-স্মরণ তার? মধুরাজে ভেবে নিদাঘ-জ্বালা, কহে মধু, সহ, ব্রজের বালা!