নিরাশার খাতে ততোধিক লোক উৎসাহ বাঁচায়ে রেখেছে; অগ্নিপরীক্ষার মতো কেবলি সময় এসে দ’হে ফেলে দিতেছে সে-সব। তোমার মৃত্যুর পরে আগুনের একতিল বেশি অধিকার সিংহ মেষ কন্যা মীন করেছে প্রত্যক্ষ অনুভব। পৃথিবী ক্রমশ তার আগেকার ছবি বদলায়ে ফেলে দিয়ে তবুও পৃথিবী হ’য়ে আছে; অপরিচিতের মতো সমাজ সংসার শত্রু সবই পরিচিত বুনোনির মতো তবু হৃদয়ের কাছে ক্রমশই মনে হয় নিজ সজীবতা নিয়ে চমৎকার; আবর্তিত হ’য়ে যায় দানবের মায়াবলে তবুও সে-সব। তোমার মৃত্যুর পরে মনিবের একতিল বেশি অধিকার দীর্ঘ কালকেতু তুলে বাধা দিতে চেয়েছে রাসভ। তোমার প্রতিজ্ঞা ভেঙে ফেলে তুমি চ’লে গেলে কবে। সেই থেকে অন্য প্রকৃতির অনুভবে মাঝে-মাঝে উৎকন্ঠিত হ’য়ে জেগে উঠেছে হৃদয়। না-হ’লে নিরুৎসাহিত হ’তে হয়। জীবনের, মরণের, হেমন্তের এ-রকম আশ্চর্য নিয়ম; ছায়া হ’য়ে গেছো ব’লে তোমাকে এমন অসম্ভ্রম। শত্রুর অভাব নেই, বন্ধুও বিরল নয়- যদি কেঊ চায়; সেই নারী ঢের দিন আগে এই জীবনের থেকে চ’লে গেছে। ঢের দিন প্রকৃতি ও বইয়ের নিকট থেকে সদুত্তর চেয়ে হৃদয় ছায়ার সাথে চালাকি করছে। তারপর অনুভব ক’রে গেছে রমণীর ছায়া বা শরীর অথবা হৃদয়,- বেড়ালের বিকশিত হাসির মতন রাঙা গোধূলির মেঘে; প্রকৃতির প্রমাণের, জীবনের দ্বারস্থ দুঃখীর মতো নয়। তোমার সংকল্প থেকে খ’সে গিয়ে ঢের দূরে চ’লে গেলে তুমি; হ’লেও-বা হ’য়ে যেতো এ জীবনঃ দিনরাত্রির মতো মরুভুমি;- তবুও হেমন্তকাল এসে পড়ে পৃথিবীতে, এমন স্তব্ধতা; জীবনেও নেই কো অন্যথা হেমন্তের সহোদর র’য়ে গেছে, সব উত্তেজের প্রতি উদাসীন; সকলের কাছ থেকে সুস্থির মনের ভাবে নিয়ে আসে ঋণ, কাউকে দেয় না কিছু, এমনই কঠিন; সরল সে নয়, তবু ভয়াবহভাবে শাদা, সাধারণ কথা জনমানুষীর কাছে ব’লে যায়- এমনই নিয়ত সফলতা।