ভারতের কোন্‌ বৃদ্ধ ঋষির তরুণ মূর্তি তুমি

হে আচার্য জগদীশ। কী অদৃশ্য তপোভূমি

বিরচিলে এ পাষাণনগরীর শুষ্ক ধূলিতলে।

কোথা পেলে সেই শান্তি এ উন্মত্ত জনকোলাহলে

যার তলে মগ্ন হয়ে মুহূর্তে বিশ্বের কেন্দ্র-মাঝে

দাঁড়াইলে একা তুমি– এক যেথা একাকী বিরাজে

সূর্যচন্দ্র পুষ্পপত্র-পশুপক্ষী-ধুলায়-প্রস্তরে–

এক তন্দ্রাহীন প্রাণ নিত্য যেথা নিজ অঙ্ক-‘পরে

দুলাইছে চরাচর নিঃশব্দ সংগীতে। মোরা যবে

মত্ত ছিনু অতীতের অতিদূর নিষ্ফল গৌরবে–

পরবস্ত্রে, পরবাক্যে, পরভঙ্গিমার ব্যঙ্গরূপে

কল্লোল করিতেছিনু স্ফীতকন্ঠে ক্ষুদ্র অন্ধকূপে–

তুমি ছিলে কোন্‌ দূরে। আপনার স্তব্ধ ধ্যানাসন

কোথায় পাতিয়াছিলে। সংযত গম্ভীর করি মন

ছিলে রত তপস্যায় অরূপরশ্মির অন্বেষণে

লোকলোকান্তের অন্তরালে — যেথা পূর্ব ঋষিগণে

বহুত্বের সিংহদ্বার উদ্‌ঘাটিয়া একের সাক্ষাতে

দাঁড়াতেন বাক্যহীন স্তম্ভিত বিস্মিত জোড়হাতে।

হে তপস্বী, ডাকো তুমি সামমন্ত্রে জলদগর্জনে,

“উত্তিষ্ঠত নিবোধত!’ ডাকো শাস্ত্র-অভিমানী জনে

পাণ্ডিত্যের পণ্ডতর্ক হতে। সুবৃহৎ বিশ্বতলে

ডাকো মূঢ় দাম্ভিকেরে। ডাক দাও তব শিষ্যদলে,

একত্রে দাঁড়াক তারা তব হোমহুতাগ্নি ঘিরিয়া।

আরবার এ ভারত আপনাতে আসুক ফিরিয়া

নিষ্ঠায়, শ্রদ্ধায়, ধ্যানে– বসুক সে অপ্রমত্তচিতে

লোভহীন দ্বন্দ্বহীন শুদ্ধ শান্ত গুরুর বেদীতে

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

artpoet

Share
Published by
artpoet

Recent Posts

হাসি

স্টেশনের ওয়েটিং রুমের ভেতরে-বাইরে কোথাও অন্য লোক ছিল না, বেহারাটাকেও ডেকে ডেকে পাওয়া গেল না।…

1 week ago

সোনাকরা যাদুকর

রোহিণী রায় আমাদের গ্রামের জমিদার ছিলেন শুনেছিলাম।আমাদের পাড়ায় তাঁদের মস্ত দোতলা বাড়ি। তিন-চার শরিকে ভাগ…

1 week ago

রহস্য

আমার বন্ধুর মুখে শোনা এ গল্প। বন্ধুটি বর্তমানে কলকাতার কোনো কলেজের প্রফেসার। বেশ বুদ্ধিমান, বিশেষ…

1 week ago

রঙ্কিনীদেবীর খড়গ

জীবনে অনেক জিনিস ঘটে, যাহার কোনো যুক্তিসংগত কারণ খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। তাহাকে আমরা অতিপ্রাকৃত…

1 week ago

মেডেল

কয়েক বছর পূর্বে এ-ঘটনা ঘটেছে, তাই এখন মাঝে মাঝে আমার মনে হয় ব্যাপারটা আগাগোড়া মিথ্যে;…

1 week ago

মেঘমল্লার

দশপারমিতার মন্দিরে সেদিন যখন সাপুড়ের খেলা দেখবার জন্য অনেক মেয়ে-পুরুষ মন্দির প্রাঙ্গণে একত্র হয়েছিল, তারই…

4 weeks ago