ঘুমায়ে রয়েছ তুমি ক্লান্ত হ’য়ে, তাই আজ এই জ্যোৎস্নায় কাহারে জানাই আমার এ-বিস্ময়- বিস্ময়ের ঠাঁই, নক্ষত্রের থেকে এলো;- তুমি জেগে নাই,
আমার বুকের ‘পরে এই এক পাখি; পাখি? না ফড়িং কীট? পাখি না জোনাকি? বাদামি সোনালী নীল রোম তার রোমে-রোমে রেখেছে সে ঢাকি, এমন শীতের রাতে এসেছে একাকী
নিস্তব্ধ ঘাসের থেকে কোন্ ধানের ছড়ার থেকে কোথায় কখন, রেশমের ডিম থেকে এই শিহরণ! পেয়েছে সে এই শিহরণ!
জ্যোৎস্নায়- শীতে কাহারে সে চাহিয়াছে? কতোদূরে চেয়েছে উড়িতে? মাঠের নির্জন খড় তারে ব্যথা দিতে এসেছিলো? কোথায় বেদনা নাই এই পৃথিবীতে।
না- না- তার মুখে স্বপ্ন সাহসের ভর ব্যথা সে তো জানে নাই- বিচিত্র এ-জীবনের ‘পর করেছে নির্ভর; রোম- ঠোঁট- পালকের এই মুগ্ধ আড়ম্বর।
জ্যোৎস্নায়- শীতে আমার কঠিন হাতে তবু তারে হলো যে আসিতে, যেই মৃত্যু দিকে-দিকে অবিরল- তোমারে তা দিতে কেন দ্বিধা? অদৃশ্য কঠিন হাতে আমিও বসেছি পাখি, আমারেও মুষড়ে ফেলিতে দ্বিধা কেহ করিবে না; জানি আমি, ভুল ক’রে দেবে নাকো ছেড়েঃ তবু আহা, তারের শিশিরে ভেজা এ রঙিন তূলোর বলেরে কোমল আঙুল দিয়ে দেখি আমি চুপে নেড়ে-চেড়ে, সোনালি উজ্জ্বল চোখে কোন্ এক ভয় যেন ঘেরে
তবু তার; এই পাখি- এতটুকু- তবু সব শিখেছে সে- এ এক বিস্ময় সৃষ্টির কীটেরও বুকে এই ব্যথা ভয়; আশা নয়- সাধ নয়- প্রেম স্বপ্ন নয় চারিদিকে বিচ্ছেদের ঘ্রাণ লেগে রয়
পৃথিবীতে; এই ক্লেশ ইহাদেরো বুকের ভিতর; ইহাদেরো; অজস্র গভীর রঙ পালকের ‘পর তবে কেন? কেন এ সোনালি চোখ খুঁজেছিলো জ্যোৎস্নার সাগর? আবার খুঁজিতে গেল কেন দূর সৃষ্টি চরাচর।