রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা দ্বিগুণ দ্বিগুণ | jwal jwal chita dwigun dwigun

জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা! দ্বিগুণ, দ্বিগুণ,

পরাণ সঁপিবে বিধবা-বালা।

জ্বলুক্‌ জ্বলুক্‌ চিতার আগুন,

জুড়াবে এখনি প্রাণের জ্বালা॥

শোন্‌ রে যবন!– শোন্‌ রে তোরা,

যে জ্বালা হৃদয়ে জ্বালালি সবে,

সাক্ষী র’লেন দেবতা তার

এর প্রতিফল ভুগিতে হবে॥

ওই যে সবাই পশিল চিতায়,

একে একে একে অনলশিখায়,

আমরাও আয় আছি যে কজন,

পৃথিবীর কাছে বিদায় লই।

সতীত্ব রাখিব করি প্রাণপণ,

চিতানলে আজ সঁপিব জীবন–

ওই যবনের শোন্‌ কোলাহল,

আয় লো চিতায় আয় লো সই!

জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা! দ্বিগুণ, দ্বিগুণ,

অনলে আহুতি দিব এ প্রাণ।

জ্বলুক্‌ জ্বলুক্‌ চিতার আগুন,

পশিব চিতায় রাখিতে মান।

দেখ্‌ রে যবন! দেখ্‌ রে তোরা!

কেমনে এড়াই কলঙ্ক-ফাঁসি;

জ্বলন্ত অনলে হইব ছাই,

তবু না হইব তোদের দাসী॥

আয় আয় বোন! আয় সখি আয়!

জ্বলন্ত অনলে সঁপিবারে কায়,

সতীত্ব লুকাতে জ্বলন্ত চিতায়,

জ্বলন্ত চিতায় সঁপিতে প্রাণ!

দেখ্‌ রে জগৎ, মেলিয়ে নয়ন,

দেখ্‌ রে চন্দ্রমা দেখ্‌ রে গগন!

স্বর্গ হতে সব দেখ্‌ দেবগণ,

জলদ-অক্ষরে রাখ্‌ গো লিখে।

স্পর্ধিত যবন, তোরাও দেখ্‌ রে,

সতীত্ব-রতন, করিতে রক্ষণ,

রাজপুত সতী আজিকে কেমন,

সঁপিছে পরান অনল-শিখে॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

artpoet

Share
Published by
artpoet

Recent Posts

টান

ভূত আছে কি নেই এ তর্ক বহুদিনের। ভগবানের অস্তিত্ব নিয়েও এ ধরনের তর্ক আদিম যুগ…

7 days ago

ছেলেধরা

সবাই মিলে বাসায় ফিরে এলাম।এসেই দেখি ঝুমরির মা বাংলোর বারান্দাতে বসে। তার সঙ্গে নাহানপুর গ্রামের…

7 days ago

ছায়াছবি

এক বন্ধুর মুখে এ-গল্প শোনা।আমার বন্ধুটি অনেক দেশ বেড়িয়েছেন, লোক হিসেবে অমায়িক, রসিক ও শিক্ষিত।…

2 weeks ago

গঙ্গাধরের বিপদ

অনেকদিন আগেকার কথা। কলকাতায় তখন ঘোড়ার ট্রাম চলে। সে সময় মশলাপোস্তায় গঙ্গাধর কুণ্ডুর ছোটোখাটো একখানা…

2 weeks ago

খোলা দরজার ইতিহাস

সন্তোষ দত্ত আমাদের মধ্যে একজন বড়ো গাল্পিক। বাইরে শ্রাবণ সন্ধ্যার ঘনায়মান মেঘজাল, মাঝে মাঝে জোনাকি…

2 weeks ago

খুঁটি দেবতা

ঘোষপাড়ার দোলের মেলায় যাইবার পথে গঙ্গার ধারে মঠটা পড়ে।মঠ বলিলে ভুল বলা হয়। ঠিক মঠ…

2 weeks ago