ঋষি কবি বলেছেন | rishi kobi bolechhen Getting your Trinity Audio player ready... পরি দ্যাবা পৃথিবী সদ্য আয়ম্ উপাতিষ্ঠে প্রথমজামৃতস্য। –অথর্ববেদ ঋষি কবি বলেছেন–ঘুরলেন তিনি আকাশ পৃথিবী,শেষকালে এসে দাঁড়ালেনপ্রথমজাত অমৃতের সম্মুখে।কে এই প্রথমজাত অমৃত,কী নাম দেব তাকে?তাকেই বলি নবীন,সে নিত্যকালের।কত জরা কত মৃত্যুবারে বারে ঘিরল তাকে চারদিকে,সেই কুয়াশার মধ্যে থেকেবারে বারে সে বেরিয়ে এল,প্রতিদিন ভোরবেলার আলোতেধ্বনিত হল তার বাণী–“এই আমি প্রথমজাত অমৃত।”দিন এগোতে থাকে,তপ্ত হয়ে ওঠে বাতাস,আকাশ আবিল হয়ে ওঠে ধুলোয়,বৃদ্ধ সংসারের কর্কশ কোলাহলআবর্তিত হতে থাকেদূর হতে দূরে।কখন দিন আসে আপন শেষপ্রান্তে,থেমে যায় তাপ,নেমে যায় ধুলো,শান্ত হয় কর্কশ কণ্ঠের পরিণামহীন বচসা,আলোর যবনিকা সরে যায়দিক্সীমার অন্তরালে।অন্তহীন নক্ষত্রলোকে,ম্লানিহীন অন্ধকারেজেগে ওঠে বাণী–“এই আমি প্রথমজাত অমৃত।”শতাব্দীর পর শতাব্দীআপনাকে ঘোষণা করেমানুষের তপস্যায়;সে-তপস্যাক্লান্ত হয়,হোমাগ্নি যায় নিবে,মন্ত্র হয় অর্থহীন,জীর্ণ সাধনার শতছিদ্র মলিন আচ্ছাদনম্রিয়মাণ শতাব্দীকে ফেলে ঢেকে।অবশেষে কখনশেষ সূর্যাস্তের তোরণদ্বারেনিঃশব্দচরণে আসেযুগান্তের রাত্রি,অন্ধকারে জপ করে শান্তিমন্ত্রশবাসনে সাধকের মতো।বহুবর্ষব্যাপী প্রহর যায় চলে,নবযুগের প্রভাতশুভ্র শঙ্খ হাতেদাঁড়ায় উদয়াচলের স্বর্ণশিখরে,দেখা যায়,তিমিরধারায় ক্ষালন করেছে কেধূলিশায়ী শতাব্দীর আবর্জনা;ব্যাপ্ত হয়েছে অপরিসীম ক্ষমাঅন্তর্হিত অপরাধেরকলঙ্কচিহ্নের ‘পরে।পেতেছে শান্ত জ্যোতির আসনপ্রথমজাত অমৃত।বালক ছিলেম,নবীনকে তখন দেখেছি আনন্দিত চোখেধরণীর সবুজে,আকাশের নীলিমায়।দিন এগোল।চলল জীবনযাত্রার রথএ-পথে ও-পথে।ক্ষুব্ধ অন্তরের তাপতপ্ত নিঃশ্বাস।শুকনো পাতা ওড়াল দিগন্তে।চাকার বেগেবাতাস ধুলায় হল নিবিড়।আকাশচর কল্পনাউড়ে গেল মেঘের পথে,ক্ষুধাতুর কামনামহ্যাহ্নের রৌদ্রেঘুরে বেড়াল ধরাতলেফলের বাগানে ফসলের খেতেআহূত অনাহূত।আকাশে পৃথিবীতেএ জন্মের ভ্রমণ হল সারাপথে বিপথে।আজ এসে দাঁড়ালেমপ্রথমজাত অমৃতের সম্মুখে। – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর Post Views: 337