এল আহ্বান, ওরে তুই ত্বরা কর্‌।

          শীতের সন্ধ্যা সাজায় বাসরঘর।

                   কালপুরুষের বিপুল মহাঙ্গন

                      বিছালো আলিম্পন,

                         অন্তরে তোর আসন্ন রাতি

                            জাগায় শঙ্খরব–

                               অস্তশৈলপাদমূলে তার

                                  প্রসারিল অনুভব।

                   বিরহশয়ন বিছানো হেথায়,

          কে যেন আসিল চোখে দেখা নাহি যায়।

                   অতীত দিনের বনের স্মরণ আনে

                      ম্রিয়মাণ মৃদু সৌরভটুকু প্রাণে।

                         গাঁথা হয়েছিল যে মাধবীহার

                             মধুপূর্ণিমারাতে

                              কণ্ঠ জড়ালো পরশবিহীন

                                 নির্বাক বেদনাতে।

                   মিলনদিনের প্রদীপের মালা

          পুলকিত রাতে যত হয়েছিল জ্বালা,

                   আজি আঁধারের অতল গহনে হারা

                      স্বপ্ন রচিছে তারা।

                         ফাল্গুনবনমর্মর-সনে

                            মিলিত যে কানাকানি

                              আজি হৃদয়ের স্পন্দনে কাঁপে

                                 তাহার স্তব্ধ বাণী।

                   কী নামে ডাকিব, কোন্‌ কথা কব,

          হে বধূ, ধেয়ানে আঁকিব কী ছবি তব।

                   চিরজীবনের পুঞ্জিত সুখদুখ

                      কেন আজি উৎসুক!

                         উৎসবহীন কৃষ্ণপক্ষে

                            আমার বক্ষোমাঝে

                              শুনিতেছে কে সে কার উদ্দেশে

                                 সাহানায় বাঁশি বাজে।

                   আজ বুঝি তোর ঘরে, ওরে মন,

          গত বসন্তরজনীর আগমন।

                   বিপরীত পথে উত্তর বায়ু বেয়ে

                      এল সে তোমারে চেয়ে।

                         অবগুণ্ঠিত নিরলংকার

                            তাহার মূর্তিখানি

হৃদয়ে ছোঁয়াল শেষ পরশের

                                 তুষারশীতল পাণি।

                     – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

artpoet

Share
Published by
artpoet

Recent Posts

হাসি

স্টেশনের ওয়েটিং রুমের ভেতরে-বাইরে কোথাও অন্য লোক ছিল না, বেহারাটাকেও ডেকে ডেকে পাওয়া গেল না।…

1 week ago

সোনাকরা যাদুকর

রোহিণী রায় আমাদের গ্রামের জমিদার ছিলেন শুনেছিলাম।আমাদের পাড়ায় তাঁদের মস্ত দোতলা বাড়ি। তিন-চার শরিকে ভাগ…

1 week ago

রহস্য

আমার বন্ধুর মুখে শোনা এ গল্প। বন্ধুটি বর্তমানে কলকাতার কোনো কলেজের প্রফেসার। বেশ বুদ্ধিমান, বিশেষ…

1 week ago

রঙ্কিনীদেবীর খড়গ

জীবনে অনেক জিনিস ঘটে, যাহার কোনো যুক্তিসংগত কারণ খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। তাহাকে আমরা অতিপ্রাকৃত…

1 week ago

মেডেল

কয়েক বছর পূর্বে এ-ঘটনা ঘটেছে, তাই এখন মাঝে মাঝে আমার মনে হয় ব্যাপারটা আগাগোড়া মিথ্যে;…

1 week ago

মেঘমল্লার

দশপারমিতার মন্দিরে সেদিন যখন সাপুড়ের খেলা দেখবার জন্য অনেক মেয়ে-পুরুষ মন্দির প্রাঙ্গণে একত্র হয়েছিল, তারই…

4 weeks ago