আষাঢ় | asharh Getting your Trinity Audio player ready... নব বরষার দিনবিশ্বলক্ষ্মী তুমি আজ নবীন গৌরবে সমাসীনরিক্ত তপ্ত দিবসের নীরব প্রহরেধরণীর দৈন্য ‘পরেছিলে তপস্যায় রতরুদ্রের চরণতলে নত।উপবাসশীর্ণ তনু, পিঙ্গল জটিল কেশপাশ,উত্তপ্ত নিঃশ্বাস।দুঃখেরে করিলে দগ্ধ দুঃখেরি দহনেঅহনে অহনে;শুষ্কেরে জ্বালায়ে তীব্র অগ্নিশিখারূপেভস্ম করি দিলে তারে তোমার পূজার পুণ্যধূপে।কালোরে করিলে আলো,নিস্তেজেরে করিলে তেজালো;নির্মম ত্যাগের হোমানলেসম্ভোগের আবর্জনা লুপ্ত হয়ে গেল পলে পলে।অবশেষে দেখা দিল রুদ্রের উদার প্রসন্নতাবিপুল দাক্ষিণ্যে অবনতাউৎকণ্ঠিতা ধরণীর পানে।নির্মল নবীন প্রাণেঅরণ্যানীলভিল আপন বাণী।দেবতার বরমুহূর্তে আকাশ ঘিরি রচিল সজল মেঘস্তর।মরুবক্ষে তৃণরাজিপেতে দিল আজিশ্যাম আস্তরণ,নেমে এল তার’পরে সুন্দরের করুণ চরণসফল তপস্যা তবজীর্ণতারে সমর্পিল রূপ অভিনব;মলিন দৈন্যের লজ্জা ঘুচাইয়ানব ধারাজলে তারে স্নাত করি দিলে মুছাইয়াকলঙ্কের গ্লানি;দীপ্ততেজে নৈরাশ্যেরে হানিউদ্বেল উৎসাহেরিক্ত যত নদীপথ ভরি দিলে অমৃতপ্রবাহে।জয় তব জয়গুরুগুরু মেঘগর্জে ভরিয়া উঠিল বিশ্বময়।– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর Post Views: 91