এককালে এই অজয়নদী ছিল যখন জেগে

                   স্রোতের প্রবল বেগে

            পাহাড় থেকে আনত সদাই ঢালি

       আপন জোরের গর্ব ক’রে চিকন-চিকন বালি।

  অচল বোঝা বাড়িয়ে দিয়ে যখন ক্রমে ক্রমে

              জোর গেল তার কমে,

নদীর আপন আসন বালি নিল হরণ করে,

     নদী গেল পিছনপানে সরে;

                 অনুচরের মতো

     রইল তখন আপন বালির নিত্য-অনুগত।

কেবল যখন বর্ষা নামে ঘোলা জলের পাকে

                 বালির প্রতাপ ঢাকে।

পূর্বযুগের আক্ষেপে তার ক্ষোভের মাতন আসে,

বাঁধনহারা ঈর্ষা ছোটে সবার সর্বনাশে।

আকাশেতে গুরুগুরু মেঘের ওঠে ডাক,

বুকের মধ্যে ঘুরে ওঠে হাজার ঘূর্ণিপাক।

তারপরে আশ্বিনের দিনে শুভ্রতার উৎসবে

সুর আপনার পায় না খুঁজে শুভ্র আলোর স্তবে।

দূরের তীরে কাশের দোলা, শিউলি ফুটে দূরে,

শুষ্ক বুকে শরৎ নামে বালিতে রোদ্‌দুরে।

চাঁদের কিরণ পড়ে যেথায় একটু আছে জল

যেন বন্ধ্যা কোন্‌ বিধবার লুটানো অঞ্চল।

নিঃস্ব দিনের লজ্জা সদাই বহন করতে হয়,

আপনাকে হায় হারিয়ে-ফেলা অকীর্তি অজয়।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

artpoet

Share
Published by
artpoet

Recent Posts

হাসি

স্টেশনের ওয়েটিং রুমের ভেতরে-বাইরে কোথাও অন্য লোক ছিল না, বেহারাটাকেও ডেকে ডেকে পাওয়া গেল না।…

1 week ago

সোনাকরা যাদুকর

রোহিণী রায় আমাদের গ্রামের জমিদার ছিলেন শুনেছিলাম।আমাদের পাড়ায় তাঁদের মস্ত দোতলা বাড়ি। তিন-চার শরিকে ভাগ…

1 week ago

রহস্য

আমার বন্ধুর মুখে শোনা এ গল্প। বন্ধুটি বর্তমানে কলকাতার কোনো কলেজের প্রফেসার। বেশ বুদ্ধিমান, বিশেষ…

1 week ago

রঙ্কিনীদেবীর খড়গ

জীবনে অনেক জিনিস ঘটে, যাহার কোনো যুক্তিসংগত কারণ খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। তাহাকে আমরা অতিপ্রাকৃত…

1 week ago

মেডেল

কয়েক বছর পূর্বে এ-ঘটনা ঘটেছে, তাই এখন মাঝে মাঝে আমার মনে হয় ব্যাপারটা আগাগোড়া মিথ্যে;…

1 week ago

মেঘমল্লার

দশপারমিতার মন্দিরে সেদিন যখন সাপুড়ের খেলা দেখবার জন্য অনেক মেয়ে-পুরুষ মন্দির প্রাঙ্গণে একত্র হয়েছিল, তারই…

4 weeks ago