ARTPOET.IN

নাম্নী – নাগরী | namni nagori

Getting your Trinity Audio player ready...

ব্যঙ্গসুনিপুণা,

     শ্লেষবাণসন্ধানদারুণা!

          অনুগ্রহবর্ষণের মাঝে

বিদ্রূপবিদ্যুৎঘাত অকস্মাৎ মর্মে এসে বাজে।

          সে যেন তুফান

যাহারে চঞ্চল করে সে তরীকে করে খানখান

          অট্টহাস্য আঘাতিয়া এপাশে ওপাশে;

     প্রশ্রয়ের বীথিকায় ঘাসে ঘাসে

রেখেছে সে কণ্টক-অঙ্কুর বুনে বুনে;

              অদৃশ্য আগুনে

          কুঞ্জ তার বেড়িয়াছে;

              যারা আসে কাছে

          সব থেকে তারা দূরে রয়;

মোহমন্ত্রে যে হৃদয়

              করে জয়

     তারি ‘পরে অবজ্ঞায় দারুণ নির্দয়।

আপন তপস্যা লয়ে যে পুরুষ নিশ্চল সদাই,

              যে উহারে ফিরে চাহে নাই,

     জানি সেই উদাসীন

              একদিন

            জিনিয়াছে ওরে;

জ্বালাময়ী তারি পায়ে দীপ্ত দীপ দিল অর্ঘ্য ভরে।

     বিদুষী নিয়েছে বিদ্যা শুধু চিত্তে নয়,

আপন রূপের সাথে ছন্দ তারে দিল অঙ্গময়;

              বুদ্ধি তার ললাটিকা,

     চক্ষুর তারায় বুদ্ধি জ্বলে দীপশিখা;

বিদ্যা দিয়ে রচে নাই পণ্ডিতের স্থূল অহংকার,

              বিদ্যারে করেছে অলংকার।

          প্রসাধনসাধনে চতুরা–

              জানে সে ঢালিতে সুরা

                   ভূষণভঙ্গিতে,

          অলক্তের আরক্ত ইঙ্গিতে।

          জাদুকরী বচনে চলনে;

          গোপন সে নাহি করে আপন ছলনে;

অকপট মিথ্যারে সে নানা রসে করিয়া মধুর

          নিন্দা তার করি দেয় দূর;

              জ্যোৎস্নার মতন

          গোপনেও নহে সে গোপন।

আঁধার আলোরি কোলে রয়েছে জাগরি–

          নাম কি নাগরী।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Scroll to Top